বিশ্বব্যাংক, জাইকা প্রভৃতি বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক সংস্থা এদের প্রধান কাজ হলো বিশ্বের অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে ঋণ সহায়তা দেওয়া। এসব দেশগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হওয়ার পাশাপাশি কাজের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, উন্নত দেশগুলোও বিশ্বব্যাপী পণ্য রপ্তানির সুযোগ পায়।
উক্ত সংস্থা অর্থাৎ মার্শাল পরিকল্পনা পাশ্চাত্য অর্থনীতির বিকাশে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়।
মার্শাল পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের দেশগুলোর অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রদান করে। এ সাহায্য গ্রহণ ইউরোপের সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও মোট ১৬টি দেশ এ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত হয়। মার্শাল পরিকল্পনার পথ ধরে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস একটি সাধারণ শুল্কনীতির অধীনে 'BENELUX' গঠন করে। ১৯৪৮ সালের মার্চে ফ্রান্স ও ব্রিটেন এতে যোগ দিয়ে ব্রাসেলসে সন্ধি জোট গঠন করে। এ সন্ধিতে বলা হয় ৫০ বছরের জন্য স্বাক্ষরকারী দেশগুলো পারস্পরিক আত্মরক্ষা, সংস্কৃতি বিনিময় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে। মার্শাল পরিকল্পনার ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি বিধান সম্ভব হয়। তাছাড়া এ পরিকল্পনার আওতায় মার্কিন আর্থিক সহায়তায় ১৬টি ইউরোপীয় দেশ ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা (QEEC) নামে একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠন করে। এ পরিকল্পনা ইউরোপের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছিল। এটি ইউরোপের অর্থনৈতিক জীবনে হতাশা ও মন্দাভাব দূর করে। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, উক্ত সংস্থা পাশ্চাত্য অর্থনীতির বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রেখেছিল।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?